নকআউটে জয় পেয়েও স্বস্তিতে নেই স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করলেও দলের তারকা ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ড এখন বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে মার্কিন শিবিরে।
বসনিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন বালোগান। এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষুব্ধ সমর্থকদের একাংশ মজা করে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপও কামনা করছেন।
ম্যাচের প্রথমার্ধে দারুণ এক গোল করে যুক্তরাষ্ট্রকে এগিয়ে দেন বালোগান। চলতি বিশ্বকাপে এটি ছিল তার তৃতীয় গোল। তবে ৬১তম মিনিটে ঘটে বিতর্কিত ঘটনাটি। বল দখলের লড়াইয়ে বসনিয়ার ডিফেন্ডার মুহারেমোভিচের পেছন থেকে শক্ত ট্যাকল করেন মার্কিন এই ফরোয়ার্ড।
ঘটনার পর রেফারি ভিএআরের সহায়তা নেন। কয়েক মিনিট পর ভিডিও রিপ্লে দেখে ৬৪তম মিনিটে বালোগানকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান তিনি। ফলে বাকি সময় ১০ জনের দল নিয়ে খেলতে হয় যুক্তরাষ্ট্রকে।
ম্যাচ শেষে রেফারির সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেন যুক্তরাষ্ট্রের কোচ মরিসিও পচেত্তিনো। তবে ফিফার শৃঙ্খলাবিধির কারণে এই লাল কার্ডের বিরুদ্ধে কার্যকর আপিলের সুযোগ নেই। ফিফার ৬৬.৪ ধারা অনুযায়ী, সরাসরি লাল কার্ড পাওয়া খেলোয়াড়কে পরবর্তী ম্যাচে নিষিদ্ধ থাকতেই হবে।
ফিফার নিয়মে কোনো সমাধান না দেখে মার্কিন সমর্থকেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাস্যরসাত্মক প্রচারণা শুরু করেছেন। তাদের দাবি, ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে বালোগানের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের চেষ্টা করা উচিত।
এক সমর্থক লিখেছেন, ট্রাম্পের উচিত ফিফার কাছে আপিল করা, প্রয়োজন হলে নির্বাহী আদেশও জারি করা। আরেকজন রসিকতা করে মন্তব্য করেন, বালোগানের জন্য এখনও কেন ‘প্রেসিডেন্সিয়াল পারডন’ ঘোষণা করা হচ্ছে না?
কেউ কেউ আবার মজা করে বলেছেন, বালোগানের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলে ট্রাম্পকে দেওয়া ফিফার ‘পিস প্রাইজ’ ফিরিয়ে দেওয়া যেতে পারে।
উল্লেখ্য, পচেত্তিনোর অধীনে এবারের বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফর্ম করছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এখন পর্যন্ত দলের কোনো ম্যাচে গ্যালারিতে দেখা যায়নি ট্রাম্পকে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছিল, তার মাঠে উপস্থিতি নিয়ে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক কিছু উদ্বেগ রয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত কয়েকটি বড় ক্রীড়া আয়োজনে ট্রাম্প উপস্থিত হলে দর্শকদের একাংশের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার মুখেও পড়তে হয়েছিল তাকে।


